মোবাইলে চার্জ দেরিতে হওয়ার কারণ
আচ্ছালামু আলাইকুম প্রিয় দর্শক - দৈনিক শিক্ষা ব্লগর পক্ষ থেকে আপনাকে স্বাগতম। আজকে আমি আপনাদের মাঝে মোবাইলে চার্জ দেরিতে হওয়ার কারণ নিয়ে আলোচনা করব।
মোবাইল বা স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা প্রায়ই যেই সমস্যাটার সম্মুখীন হোন সেটা হচ্ছে ফোনের স্লো চার্জিং। আপনি হয়তো নতুন একটি মোবাইল ফোন কিনেছেন। প্রথমে কয়েকদিন খুব ভালো চললেও একটা পর্যায়ে গিয়ে খেয়াল করলেন আপনার ফোনটা চার্জ হতে বেশ সময় নিচ্ছে।
নতুন অবস্থায় এক থেকে দেড় ঘন্টার মধ্যেই পুরোপুরি চার্জ হয়ে যেতো। কিন্তু এখন চার-পাঁচ ঘন্টাতেও ফুল চার্জ হয় না। কি কারণে এমনটা হচ্ছে সেটাও বুঝতে পারছেন না। এই আর্টিকেলে জানতে পারবেন, কেন মোবাইল চার্জ হতে অনেক সময় লাগে বা মোবাইলে চার্জ দেরিতে হওয়ার কারণ কি কি।
মোবাইলে চার্জ দেরিতে হওয়ার কারণ
চার্জার ঠিকমত না লাগানো
ঘুমঘুম চোখে বা তাড়াহুড়ো করে চার্জার কোনমতে পোর্টে লাগিয়ে দিয়েছেন। চার্জার ঠিকমতো লাগানো হয়েছে কিনা সেটুকুও চেক করেননি৷ আর এখান থেকেই মোবাইলের চার্জিং স্লো হয়ে যায়। চার্জারের সাথে পোর্টের এবং মোবাইলের সংযোগ ঠিক থাকলে অল্প সময়ে দ্রুত চার্জ হয়, কিন্তু সংযোগ লুজ থাকলে সেটা সম্ভব হয় না।
অ্যাডাপ্টারের সমস্যা
যে অ্যাডাপ্টারে বা পোর্টে চার্জারটা লাগাচ্ছেন, সেটা খারাপ থাকলে চার্জার ঠিকমতো বৈদ্যুতিক সংযোগ পাবেনা। তখন ফোন ধীর গতিতে চার্জ হবে। তাছাড়া খারাপ অ্যাডাপ্টারে মোবাইল ফোন চার্জে দেওয়ার কারণে ফোনের ব্যাটারির ক্ষতি হতে পারে। এভাবে চলতে থাকলে একসময় দেখা যাবে মোবাইলে চার্জ থাকে না, খুব তাড়াতাড়ি চার্জ শেষ হয়ে যাচ্ছে। তাই, অ্যাডাপ্টার বা পোর্ট যাতে খারাপ না হয় এইটা আগে নিশ্চিত করতে হবে।
চার্জিং ক্যাবলের সমস্যা
মোবাইল দেরিতে চার্জ হওয়ার পেছনে চার্জিং ক্যাবল একটি বড় কারণ হতে পারে। ফোনের অরিজিনাল ক্যাবল ব্যবহার না করে অন্য ফোনের ক্যাবল ব্যবহার করলে চার্জের গতি কমে যায়৷ একই ক্যাবল কয়েকটি ডিভাইসে ব্যবহার করলে ক্যাবল নষ্ট হয়ে যায়, ফলে সেটা ফোনকে চার্জ দিতে পারেনা। আবার নকল চার্জিং ক্যাবল ব্যবহারেও সমস্যা দেখা দেয়। অনেকে মাল্টিচার্জিং ক্যাবল ব্যবহার করে থাকেন একসাথে কয়েকটি ফোনে চার্জ দেয়ার জন্য। এতে বিদ্যুতের গতি কমে যায় এবং চার্জিং ধীরে হয়। এছাড়াও ওয়্যারলেস চার্জার চার্জের গতি কমিয়ে দিতে পারে।
ফোনের ব্যাটারির সমস্যা
সঠিক চার্জার এবং চার্জিং ক্যাবল ব্যবহার করা সত্ত্বেও যদি ফোনের চার্জিং স্লো হয়ে যায়, তাহলে ধরে নিবেন ফোনের ব্যাটারিতে সমস্যা আছে। ব্যাটারি খুব বেশি পুরনো হলে বা ফুলে উঠলে চার্জ নিতে পারেনা। তখন চার্জিংয়ে বসানো মাত্রই ফোন অস্বাভাবিকভাবে গরম হয়ে যায়, অথবা খুব দ্রুত চার্জ হয়ে শেষ হয়ে যায়। আবার নকল ব্যাটারি ব্যবহার করলেও চার্জ দেরিতে হয়।
ফোনের সমস্যা
বয়স হলে মানুষের কর্মক্ষমতা হারিয়ে যায়, ফোনের ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার ঘটে। ফোনটা যদি বেশি পুরনো বা জ্যাম হয়ে যায়, তাহলে সেটার হার্ডওয়্যার দুর্বল হয়ে চার্জ নেয়ার ক্ষমতা আস্তে আস্তে হারিয়ে ফেলে। তখন ঘন্টার পর ঘন্টা চার্জে রাখলেও ফোনে ফুল চার্জ হয়না।
কম্পিউটারে চার্জ দেয়া
অনেকে কম্পিউটারে কাজ করার সময়ে কম্পিউটারের ইউএসবি পোর্টে সরাসরি মোবাইল চার্জ দিয়ে থাকেন। এতে মোবাইলের কোন ক্ষতি হয়না কিন্তু চার্জ অনেক ধীরে ধীরে হয়।
চার্জারের সংযোগ অন করে রাখা
আমরা অনেক সময় মোবাইল চার্জ দেয়ার পরে চার্জারের বৈদ্যুতিক সংযোগ অফ করতে ভুলে যাই। অনেকক্ষণ ধরে চার্জার অন থাকলে শক্তি ক্ষয় হতে হতে সেটার স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা কমে যায়। ফলে মোবাইল চার্জ হতে অনেক সময় নেয়।
ফোন চার্জে বসিয়ে ব্যবহার করা
আপনি নিশ্চয়ই কম ধৈর্য্যশক্তি সম্পন্ন একজন ব্যক্তি তাই চার্জ হওয়ার সময়টুকুও অপেক্ষা করতে পারছেন না। তাই মোবাইলটা চার্জে বসিয়েও ব্যবহার করছেন এবং নিজেই চার্জিংয়ের গতি কমিয়ে ফেলছেন। চার্জের সময়ে গেইম খেলা, ভিডিও দেখা, মিডিয়া ডাউনলোড, ফেসবুক চালানো ইত্যাদি হাই রেজুলেশন কাজের কারণে ফোন ধীরে ধীরে চার্জ নেয়।
অত্যধিক গরম অবস্থায় চার্জে বসানো
একটানা অনেকক্ষণ ব্যবহারের পরে মোবাইল যখন গরম হয়ে যায়, তখন চার্জে বসালে মোবাইলের বিশ্রাম হয়না। এতে করে গরম ফোন আরো গরম হয়ে যায় এবং চার্জ খুবই ধীরগতিতে হয়। সরাসরি সূর্যের আলো পড়ে এমন জায়গায় চার্জ দিলেও ডিভাইস সহজে চার্জ নিতে পারেনা।
ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপস
কিছু কিছু অ্যাপ আছে যেগুলো ব্যবহার না করলেও ব্যাকগ্রাউন্ডে ঠিকই চলতে থাকে। এগুলো হার্ডওয়্যারের শক্তি দ্রুত খরচ করে ফেলে এবং চার্জ বেশি নিতে থাকে। ফলে মোবাইল তাড়াতাড়ি চার্জ করা সম্ভব হয়না। আবার চার্জে লাগানোর পরে ফোনের স্ক্রিন যদি চালু থাকে তাহলেও চার্জ হতে সময় নেয়।
কানেক্টিভিটি ফিচারস চালু থাকা
মোবাইল ডাটা, ওয়াইফাই, ব্লুটুথ, জিপিএস এগুলোকে বলা হয় কানেক্টিভিটি ফিচারস। এগুলো চালু থাকলে ফোনের হার্ডওয়্যার ব্যবহার করে এবং ব্যাটারির শক্তি দ্রুত শেষ করে। ফলে চার্জে থাকা অবস্থাতেও মোবাইলের নেট চার্জিং রেট কমে যায় এবং চার্জ হতে সময় নেয়।
চার্জিং পোর্টে ময়লা জমা
মোবাইলের চার্জিং পোর্টে খুব তাড়াতাড়ি ময়লা প্রবেশ করতে পারে। পকেটে মোবাইল রাখার সময়ে যদি চার্জিং পোর্ট সবসময় নিচের দিকে রাখেন, তাহলে পোর্টে ময়লা জমে যায়। আবার ধুলাবালি উড়ে এমন পরিবেশে ফোন রাখলে মোবাইলে ময়লা ঢুকে যায়। এতে পোর্ট ব্লক হয়ে চার্জের গতি কমে যায়। এছাড়াও চার্জিং ক্যাবল ও অ্যাডাপ্টারের পোর্টে ময়লা জমেও সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।
দুর্বল বিদ্যুৎ ব্যবস্থা
মোবাইল ধীরে ধীরে চার্জ হওয়ার সম্ভাব্য সব কারণ জেনে প্রতিকার করেছেন, কিন্তু স্লো চার্জিংয়ের সমস্যা কমছেই না। যদি এমনটা হয়, তাহলে বুঝে নিবেন আপনার বাড়ির বিদ্যুৎ ব্যবস্থাটাই দুর্বল। আবার ভোল্টেজ কম থাকলেও ফোন ধীর গতিতে চার্জ হয়৷
শেষ কথা
এখন যেহেতু জানলেন মোবাইলে চার্জ দেরিতে হওয়ার কারণ গুলো সম্পর্কে, এজন্য খুঁজে বের করুন কোন কারণে আপনার ফোনের চার্জিং স্লো হয়ে গেছে এবং সমাধান করুন। এখানে স্লো চার্জিংয়ের সম্ভাব্য সব কারণ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এগুলো বাদে অন্য কারণ আপনার জানা থাকলে শেয়ার করুন আমাদের সাথে। আর লেখাটি সম্পর্কে মূল্যবান কোন মতামত থাকলে কমেন্ট বক্সে জানাতে পারেন। ধন্যবাদ!
আপনার আসলেই দৈনিক শিক্ষা ব্লগর একজন মূল্যবান পাঠক। মোবাইলে চার্জ দেরিতে হওয়ার কারণ এর আর্টিকেলটি সম্পন্ন পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ ধন্যবাদ। এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনার কেমন লেগেছে তা অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না।

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন - অন্যথায় আপনার মন্তব্য গ্রহণ করা হবে না।
comment url